You are here
Home > Don't Miss > শ্লোক বা উক্তি > Steve Jobs: ‘টেক’ মহলের রাজা স্টিভ জবস এর জীবনী

Steve Jobs: ‘টেক’ মহলের রাজা স্টিভ জবস এর জীবনী

স্টিভ জবস এর জীবনী (Steve Jobs biography in bengali)

আপেল প্রধানত চার প্রকার। লাল এবং সবুজ আপেল— যা আমরা খাই। তাছাড়া নিউটন সাহেবের আপেল এবং আধ খাওয়া স্টিভ জবসের আপেল। আজ এই এই ‘টেক’ মহলের চিররঞ্জিত নাম, এই আধ খাওয়া আপেল যাঁর বহু পরিশ্রমের ফল— সেই স্বল্পভাষী স্টিভ জবসের কথা জানব। জানবো স্টিভ জবস এর জীবনী (Steve Jobs biography in bengali) এবং তাঁর কিছু উক্তি। এই আর্টিকেলের মধ্যে আপনি পাবেন স্টিভ জবসের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু তথ্য।

চলুন, তবে দেখে নিই স্টিভ জবসের জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

‘টেক’ মহলের রাজা স্টিভ জবস(Steve Jobs) এর জন্ম:

স্টিভ জবসের জীবনী(Steve Jobs biography) বলতে গেলে, তাঁর জন্মের থেকে শুরু করতে হয়। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি স্টিভ জোইয়ান স্কিবল্ এবং আব্দুল ফাতাহ্ জন্ডলির কোলে জন্ম নেয়। যদিও জন্ডলি জানিয়েছিলেন যে তিনি জানতেন না তাঁর ছেলের কথা। সিরিয়ান জন্ডলি স্কিবলের টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন যখন স্কিবল্ পি.এইচ.ডি. করছিলেন। সেই সময় স্টিভের নামকরণ না করেই তাঁকে পাঠিয়ে দেন অ্যাডপশনে। পরবর্তীকালে পল এবং ক্লারা জোবস তাঁকে দত্তক নেন এবং নাম দেওয়া হয় স্টিভেন পল জোবস।
পরবর্তী সময় জোইয়ানের এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। স্টিভের বোন মোনা সিম্পসন তাঁর দাদার সাথে যোগাযোগ করেন। ২৭ বছর বয়সে তিনি তাঁর নিজের বাবা মায়ের খোঁজ পান। এরপর স্টিভ জবস(Steve Jobs) তাঁর জন্মদাত্রী মায়ের সাথেও দেখা করেন, কিন্তু কোথাও গিয়ে বাবার প্রতি অভিমান তাঁর রয়ে গিয়েছিল, যার জন্য তাঁকে চিনতে পারলেও তাঁর কাছে নিজের আত্মপরিচয় গোপন করে যান। মোনা যখন তাদের বাবাকে খুঁজে পান, জন্ডলি তখন একটি কফিশপ চালাতেন। জন্ডলি এও বলেন, মোনাকে যে, তাঁর আগের একটি রেস্তরাঁ ছিল সিলিকন ভ্যালিতে। যেখানে স্টিভ জবস খেতে আসতেন এবং মোটা অঙ্কের বকশিশ পর্যন্ত দিতেন। কিন্তু সে কোনওদিন জানতেই পারেননি যে সেই স্টিভ জবস তাঁর নিজের ছেলে। যদিও পরে তিনি বলেন, তিনি নাকি তাঁর ছেলের অস্তিত্বের কথা জানতেনই না।

স্রোতের বিমুখে হাঁটতে থাকা স্টিভ জবস(Steve Jobs):

ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমান সিলিকন ভ্যালিতে ছোট্ট স্টিভ জবস বড় হচ্ছিলেন ক্লারা এবং পলের সান্নিধ্যে। বাংলার গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন তৎকালীন সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট ছিলেন না, স্টিভ জবসও তাঁর সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট ছিলেন না। শৈশবে স্কুলে দুষ্টুমি করে নিজের বিরক্তি কাটাতেন। এমনকি শোনা যায়, যখন স্টিভ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, তখন নাকি শিক্ষকরা তাঁকে ঘুষ পর্যন্ত দিতেন পড়াশোনা করার জন্য।
কিন্তু বলা বাহুল্য, ছটফটে হলেও তাঁর মাথা ছিল স্বচ্ছ। যার ফলে তিনি খুব ভাল ফলাফল করতেন। এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে বয়সের আগেই হাইস্কুলে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন পল ও ক্লারার কাছে। কিন্তু তাঁরা রাজি হননি।
যদিও সব সময় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে ঝোঁক ছিল স্টিভের। কিন্তু আরও পাঁচটা কলেজ ছাত্রের মতই প্যাশন অনেক কিছুতেই ছিল জোবসের। অগ্রজ ল্যারি এলিসনের মতই স্টিভও কলেজ ড্রপআউট ছিলেন। রীড কলেজে এক বছরের ড্রপ আউট স্টিভ। মনে হচ্ছে, যে কলেজ ড্রপআউট সে এত বড় মাপের সায়েন্টিস্ট হল কী করে? তার তো জীবন সেখানেই শেষ। না, স্টিভ জবস সেখান থেকেই উঠে দাঁড়াতে শুরু করেন। এখানেই আরও পাঁচটা কলেজ ড্রপআউট স্টুডেন্টের থেকে স্টিভ জবসের জীবনী আলাদা। কলেজ ড্রপ আউট হওয়ার পরে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে আর্টারি করপোরেশন নামে এক কোম্পানিতে চাকরি নেন তিনি। কাজ- ভিডিও গেমস ডিজাইন। এই চাকরি করে যথেষ্ট টাকা সঞ্চয় করেন এবং তারপর তীর্থযাত্রা করেন ভারতে। কৌতুহলী হয়ে পড়েন বৌদ্ধধর্মে।

আরও পড়ুন – চাণক্য নীতি: জীবন পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি

অ্যাপলের জন্ম:

স্টিভ জবসের জীবনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে অ্যাপল। ১৯৭৪ এ যখন স্টিভ জবস আর্টারি করপোরেশনে কর্মরত, তখন যোগাযোগ করেন তার হাইস্কুলের বন্ধু স্টিফেন ওজনিয়াকের সঙ্গে। তিনি তখন হিউলেট-পাকার্ড কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে ওজনিয়াক বলেছিলেন, সেই সময় কম্পিউটার সম্পর্কে স্টিভের চেয়ে তাঁর অনেক বেশি প্র্যাক্টিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স ছিল। ইতিমধ্যে ওজনিয়াক নিজের কম্পিউটার লজিক বোর্ডে কিছু ডিজাইনও করে ফেলেছেন। ব্যস্, জোবস বুঝেছিলেন- এতদিন এমনি একটি মানুষকে তিনি খুঁজছিলেন বিজনেস পার্টনার হিসেবে।

স্টিভ জবস(Steve Jobs) নিজের প্রিয় ভক্সওয়াগন মিনিবাসটি বিক্রি করে দিলেন। আর ওজনিয়াক বিক্রি করলেন তাঁর যখের ধন প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর। এই বিক্রির টাকাই হল তাদের মূলধন বা ক্যাপিটাল। জোবসের গ্যারেজ বদলে গেল আপেল কোম্পানির ওয়র্কশপে। তৈরি হল আপেল ১। জন্ম নিল এক ঐতিহাসিক গেজেট।

জোবসের দূরদৃষ্টি:

ইতিহাস সাক্ষী আছে, কোনও বৈজ্ঞানিক তাঁর সমসমায়িক সময় খুশি ছিলেন না। যখন গাড়ি করে চলছে, তখন হোয়াইট ব্রাদার্স স্বপ্ন দেখেছিল ওড়ার। যখন সবাই নিজেদের ছবি আঁকাচ্ছে, তখন জোহান শান স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্যামেরায় ছবি তোলার। এদের জীবনের মতই স্টিভ জবসের জীবন। যখন কম্পিউটার আবিষ্কার নিয়ে সারা বিশ্ব আনন্দে ডগমগ, তখন স্টিভ স্বপ্ন দেখেছিলেন একান্ত নিজের কম্পিউটারের। তিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলেন। এই কারণেই, জোবসকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা যাকে আমরা পি.সি. বলি তার জনক হিসেবে গণ্য করা হয়।

স্টিভের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে— “স্টে হাংরি, স্টে ফুলিশ”। যাকে বঙ্গানুবাদ করলে দাঁড়ায়, ক্ষুধার্ত থাকো, বোকা থাকো। এই খিদে খাবারের খিদে নয়। এই খিদে নতুন কিছু করে দেখানোর খিদে। নতুন কিছু জানার খিদে। এ কথা যে স্টিভ জবস(Steve Jobs) নিজেও মানতেন তার প্রমাণ আমরা বার বার পেয়েছি। অ্যাপল ১-এই থেমেছিলেন না স্টিভ। জোবস-ওজনিয়াক জুটি তৈরি করলেন অ্যাপল ২। এটি লজিক বোর্ড নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কীবোর্ড। এটি তৈরি হলো ১৯৭৭ এ। এই বছরই কোম্পানি তৈরি হল, নাম হল অ্যাপল কম্পিউটার। অ্যাপল ২ বাজারে তুমুল সাড়া ফেলে দেয়। অ্যাপল কম্পিউটার কোম্পানি যে সাফল্য পায় তাকে ইকোনমিকসের ভাষায় বলে ‘বুম’ -অর্থাৎ ব্যবসার চরমতম সাফল্য।

স্টিভের হাত ধরে অ্যাপলের বড় হওয়া:

১৯৮১ এ স্টক অফারিংয়ে সাড়া ফেলে দিয়ে রেকর্ড বানায় অ্যাপল কম্পিউটার। এবং ১৯৮৩ তে ‘ফর্টিউন ৫০০’ এর মধ্যে আপেল এসে যায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় কোম্পানি হিসেবে। এরকম সময় ব্যবসার সুবিধার্থে স্টিভ জন স্কালিকে কোম্পানির সি.ই.ও. বানান। জন তখন ‘পেপসিকো’র প্রেসিডেন্ট। জহুরী জহর চেনে।

কিন্তু স্কালিকে রাজি করানো মোটেই সহজ ছিল না স্টিভের পক্ষে। স্কালিকে চ্যালেঞ্জ করে বলে, “তুমি কি সারাজীবন চিনির জল বিক্রি করবে?” -এই একটা কথা নাড়িয়ে দিয়েছিল তাঁকে। পরবর্তী সময় স্টিভ জবসের, ওজনিয়াকির পাশে স্কালি এসে দাঁড়ান। এই কম্পিউটার বিপ্লবের বিপ্লবী হন তিনিও।

এরকম সময় স্টিভ জবস নিজে কোম্পানির তৎকালীন সবচেয়ে বড় প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। লক্ষ্য, আরও ছোট কম্পিউটার। একটি ছোট দল নিয়ে স্টিভ তৈরি করে ফেললেন ‘ম্যাকিন্টোস’, যাকে আমরা ‘ম্যাক’ বলি। শুরু হল এক নতুন বিপ্লব। স্টিভ জবসের জীবনে জুড়ল নিজের জীবনীতে তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিতে তাঁর অনুজ টিম কুক এক বিশ্রী ষড়যন্ত্র করেন স্টিভের বিরুদ্ধে। অতএব তিনি বাধ্য হন তাঁর সৃষ্ট অ্যাপল থেকে বেরিয়ে আসার। ১৯৮৫ সালে স্টিভ জবস অ্যাপল ত্যাগ করেন।

অ্যাপল-বিহীন স্টিভ জবস(Steve Jobs):

স্টিভ জবস ছিলেন প্রকৃতপক্ষে শিল্পী। তাঁকে সবাই আমরিকান বিজনেসম্যান বলে চিনলেও তিনি আসলে ছিলেন এক বৈজ্ঞানিক। অ্যাপলে তাঁর উপর অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি যদি তাঁর শিল্পী সত্তা থেকে বেরিয়ে আরও একজন আমেরিকান ক্যাপিটালিস্ট না হতে পারেন, তাহলে আপেল এর ক্ষতি। আমরা আগেই জেনেছি স্টিভ একজন অভিমানী মানুষ। সেই অভিমান থেকেই স্টিভ অ্যাপল ত্যাগ করেন।

পরিবর্তে তৈরি করেন নেক্সট কম্পিউটার এবং পিক্সার।
নেক্সট কম্পিউটারের জন্য খুব উন্নতমানের ওয়র্কস্টেশন তৈরি করত। এবং এটি শিক্ষার জন্যই মূলত বানানো হয়। এটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের জন্যই নেক্সট কম্পিউটার বাজারে নাম কামায়।
এই নেক্সট কম্পিউটার আবার পরবর্তী সময় স্টিভ-বিহীন অ্যাপল কোম্পানি কিনে নেয়।

আর পিক্স্যার কেনে ডিজনি কোম্পানি। পিক্স্যার-ডিসনি কোলাবরেশনে কিছু বিখ্যাত সিনেমা রিলিজ হয়, যারমধ্যে কিছু বিখ্যাত অ্যানিমেটেড সিনেমা। এই যেমন টয় স্টোরি সিরিজ, ফাইন্ডিং নেমো, ওয়াল-ই, দি ইনক্রেডিবল রয়েছে তালিকায়। ক্রমেই পিক্স্যার হয়ে ওঠে ডিজনির সর্ববৃহৎ শেয়ার হোল্ডার।

স্টিভ জবসের ঘরে ফেরা:

বেশিদিন টেক মহলে নিজের প্রথম সন্তান অর্থাৎ অ্যাপলকে ছেড়ে থাকতে পারেননি জোবস। মান-অভিমান ভুলে ঘরের ছেলে ঘরে ফেরে। অর্থাৎ অ্যাপল কোম্পানিতে প্রত্যাবর্তন ঘটে স্টিভ জবসের আর তার সাথে সাথে স্টিভ জবসের জীবন এক নতুন দিকে মোড় নেয়। ১৯৯৭ সালে তিনি ফিরে আসেন এবং ২০০০ সালে চিরস্থায়ী সি.ই.ও. পদে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। স্টিভ জবসের নেতৃত্বে আপেল নিয়ে আসে ‘আই ম্যাক’। যা বাজারে সাড়া ফেলে। পরবর্তী সময় স্টিভের নেতৃত্বে বাজারে আসে আই পড, আই টিউন এবং আই টিউন স্টোর। সব মিলিয়ে ব্যবসা আবার ঊর্ধ্বমুখী।

এরপর বাজার কাঁপিয়ে স্টিভ আনেন আই ফোন।

স্টিভ জবসের মোট সম্পদ:

আমরা সবাই জানি স্টিভ জবসের অতুলনীয় সব আবিষ্কারের কথা। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর মোট সম্পদ কত ছিল।

একজন কলেজ ড্রপআউট ছাত্র তাঁর মৃত্যুর আগে ১০.২ বিলিয়ন আমেরিকান ডলারের মালিক ছিলেন।

অর্থাৎ ৮১,৬৫,৩২,৪১,০০,০০০.০০ ভারতীয় রুপি। এ কথাটা(?) এর রিপোর্ট বলছে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি ১ মিলিয়ন আমেরিকান ডলারের অধিপতি হয়ে ওঠেন। ১৯৭৮ সালে যখন অ্যাপলের বয়স মাত্র দু’বছর, তখনই স্টিভ জবসের আর্থিক সম্পদ ১ মি.। এর এক বছর যেতে না যেতে ১০ মি. আমেরিকান ডলার তাঁর জিম্মায়। যখন তিনি সবে মাত্র ২৫-এ পা দিয়েছেন, স্টিভ জবসের মোট অর্থের অঙ্ক পৌঁছে গেছে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশিতে এবং এর সবটাই হয়েছে আপেল ২-এর জন্য। শুধু এখানেই শেষ নয়, ফোর্বস ম্যাগাজিনের লিস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিত্তবান যুবকের তালিকায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে যায় ‘স্টিভ জবস’ নামটি। আপামর বিশ্ববাসী স্টিভ জবসের নাম মনে রাখে অ্যাপলের জন্য। কিন্তু, তাঁকে মিলিওনেয়র থেকে বিলিয়নর বানিয়েছিল তাঁর আরেক সৃষ্টি পিক্সার। যেদিন পিক্সার বাজারে প্রকাশ হয় স্টিভ হয়ে ওঠেন একজন বিলিওনার। আগেই বলা হয়েছে যে পিক্সার ডিসনি-র সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডার ছিল। অনেক সিনেমা এই স্টুডিও থেকে রিলিজ হয়েছে। শোনা যায়, যতবার স্টিভ জবসের গাড়িতে সামান্য আঁচড় লাগত, তিনি ততবার সেই গাড়িটি পরিবর্তন করে নিতেন। অর্থাৎ বুঝতেই পারি আমরা স্টিভ তাঁর বিলাসিতার সাথে আপোষ করেননি।

ইনভেস্টোপিডিয়ার রিপোর্ট বলছে, স্টিভ চাইলে আরও অনেক বিত্তবান হতে পারতেন। যখন স্টিভ অ্যাপল ছেড়ে দেন ১৯৮৫ তে, তখন তিনি তাঁর বেশিরভাগ শেয়ার বিক্রি করে দেন। শুধু রাখেন একটি মাত্র শেয়ার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাগটা যদি তিনি না বিক্রি করতেন, তাহলে তাঁর সম্পদ আরও বেড়ে যেত।

ব্যক্তিগত জীবনে স্টিভ:

স্টিভ জবস(Steve Jobs) চিরকাল ব্যক্তিগত জীবনকে খুব গোপন রেখেছেন। এমনকি নিজে শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন এমন বেশে যে সাধারণ নাগরিক এই জাদুকরকে চিনতে পারেননি। তবু আমরা যা জানতে পারি, জোবসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যা তথ্য পেয়েছি তা আপনাদের জন্য রইল।

স্টিভ জবসের জীবন আপেলেই শেষ নয়। তিনি বিয়ে করেন লরেন পাওয়েলকে, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁদের বিয়ে হয় বৌদ্ধধর্ম অনুযায়ী। জসামিমাইট ন্যাশনাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয় তাঁদের এই বিবাহ। তাঁদের তিন সন্তান তথা, রিড পল, এরিন সিয়েনা, এবং ইভ।

স্টিভের বন্ধু এলিজাবেথ হোমস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কলেজে পড়াকালীন স্টিভের জোন বায়েজ নামক এক গায়িকাকে ডেট করেন।কিন্তু পরবর্তী সময় সে সম্পর্ক তাঁদের থাকে না। অ্যালান ডাচম্যানের বই “দি সেকেন্ড কমিং অফ স্টিভ জবস” -এ এর উল্লেখ আমরা পাই। এই বইয়ে আরও বলা আছে, স্টিভ জবস তাঁর পছন্দের প্রেয়সীদের নিজ হাতে কম্পিউটার গিফট করতেন। তা অবশ্যই নিজের বানানো কম্পিউটার। এই প্রেয়সীদের তালিকায় আছেন ডিয়েন কিটন এবং লিসা বির্নবাকের নাম।

তথ্য বলছে, স্টিভ জবসের আরও এক মেয়ে আছে । নাম লিসা ব্রেনান। লিসার মা ক্রিস অ্যান ব্রেনান স্টিভের হাই স্কুলের গার্লফ্রেন্ড। প্রথমে অস্বীকার করলেও, পরে লিসাকে মেনে নেন স্টিভ জবস।

স্টিভের শারীরিক অসুস্থতা:

স্টিভ জবস দীর্ঘদিন কাউকে জানতে দেননি তার অসুস্থ্যতা নিয়ে। ২০০৩ এ তাঁর অগ্ন্যাশয় আক্রমণ করে মারণ কর্কট। কিন্তু এটি সাধারণ ক্যান্সার ছিল না। ছিল নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার। যা তাঁকে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। ২০০৪ এ তিনি অপারেশনের দ্বারা সেই টিউমার বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। তবে তার অপারেশনের সিধ্যান্ত নিয়েছিলেন অনেক পরে। ডাক্তারেরা বলেন যদি তিনি 9 মাস দেরি না করতেন তাহলে হয়তো তাখে আরো বেশিদিন রাখা যেত বাঁচিয়ে। পরিবার ও বন্ধুদের নানা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তিনি নিজেই প্রাচ্য এবং পশ্চিমী ওষুধ পত্র সেবন করেছিলেন। তিনি নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস শুরু পর্যন্ত করেন , কিন্তু বারবার অপারেশন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
শোনা যায় অ্যাপলের বানিজ্যিক পতন হোয়ার ভয় এই স্টিভ জবসের অসুস্থ্যতা গোপন রাখা হয়। কোম্পানির একসেকিউটিভেরা একটি জিনিস মন প্রাণ দিয়ে মানতেন যে জোবস নিজেই অ্যাপল কোম্পানির মুখ। তার জীবনের উপর নির্ভর করে অ্যাপলের উত্থান – পতন। অর্থাৎ যদি জবসের এই মারণ রোগের কথা সবাইবজন্তে পারেন তাহলে অনেক শেয়াড় হোল্ডার তাদের স্টক প্রত্যাহার করতেই পারে। যদি সেটা হয় তাহলে কোম্পানির পতন অবধারিত। সেইজন্য জবেসর নিজের ইচ্ছাতেই এই খবর গোপন রাখা হয়।

২০০৯ এর শুরুতে স্টিভ জবস অস্বাভাবিক ভাবে অনেক ওজনকমিয়ে ফেলে। তখনই কেউ কেউ আন্দাজ করে তার শরীরের অবনতির কথা রব ওঠে যে জবসকে নাকি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট পর্যন্ত করতে হয়। কিন্তু এইসব গুজবকে উড়িয়ে দিয়ে স্টিভ বলেছিলেন তার নাকি সামান্য হরমোনের অনুপাত জনিত রোগে ভুগছেন।

কিন্তু এর কিছুদিনের মধ্যেই স্টিভ ছয় মাসের জন্য কর্মবিরতি নেন। অফিসে একটি ইমেইল পাঠান যেখানে তিনি বলেন যে তিনি সতিই অসুস্থ্য এবং এটি কোনো মামুলি রোগ ব্যাধি না। তিনি তার সমস্ত দৈনন্দিন কাজের ভার কোম্পানির অনুজ তত্কালীন চিফ অপারেটিং অফিসার টিম কুকের উপর দিয়ে দেন।
এরপর বহু দিন ছুটিতে থাকার পর ২০০৯ এ ৯ই সেপটেম্বর একটি অ্যাপলের অনুষ্ঠানেই বক্তৃতা দেন। এই অনুষ্ঠানটি সবার জন্য ছিলনা শুধুমাত্র আমন্ত্রিতদের জন্যই ছিল। ২০১০ এর বেশিরভাগ সময়টাই কাজ পাগল স্টিভ জবকে দেখা যায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে। ২০১১ এ জনুয়ারি মাসে যে তিনি অসুস্থ থাকার দরুন ছুটিতে আছেন এবং আগস্টে তিনি অ্যাপলের সি ই ও পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দায়ে। এবং কুকের কাধেই সমস্ত কাজের ভার তুলে দায়ে।
২০১১ এ প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল দুষ্ট কর্কট। ৫ই অক্টোবর জোবস পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। নিস্তব্ধ হয়ে যায় টেক মহল। অ্যাপল হয় অভিভাবকহীন।

স্টিভ জবসের উপর বই ও সিনেমা:

স্টিভ জবস ওয়ালটের ইসাকসনকে অনুরোধ করেন যাতে তিনি জোবসের জীবনী লেখেন। ইসাকসন একজন মার্কিন সাংবাদিক এবং অধ্যাপক ছিলেন, পরবর্তী সময় জীবনীমূলক বহু বই লেখেন। বইটির নাম “স্টিভ জবস”। মানুষটির জীবন খুব সাধারণ না হলেও তাঁর জীবনীর নাম খুবই সাধারণ রাখা হয়।

ওয়ালটার অন্তত চল্লিশটি সাক্ষাতকার নেন জোবসের এবং তার জন্য সময় নেন দু’বছরেরও বেশি। শুধু তাই নয়, এই বইটি লেখার জন্য একশোর বেশি লোকের সাক্ষাতকার নেন ওয়ালটার । এর মধ্যে রয়েছেন স্টিভের পরিবারের সদস্য, বন্ধু, পরামর্শদাতা, সহকর্মী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী। শোনা যায়, জোবস নিজে বইয়ের প্রচ্ছদ ছাড়া আর কোথাও ওয়ালটারের কাজে হস্তক্ষেপ করেননি। উপরুন্ত সবাইকে বলেছিলেন যাতে তারা সৎ থাকে সাক্ষাতকারের সময়।

এই বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই ড্যানি বোয়েল তৈরি করেন একটি সিনেমা। নাম ‘স্টিভ জবস’। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন মাইকেল ফ্যাসবেন্ডের। অবশেষে ২০১১ সালে এই বই বাজারে আসে।

এছাড়াও নানান বই ও সিনেমা জোবসের জীবনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে।

জোবস যে মেয়েটিকে প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন, সেই লিসা ব্রেনান একটি আত্মজীবনীমূলক বই লেখেন ২০১৮ সালে। নাম ‘স্মল ফ্রাই’। এই বইয়ে একাধিকবার উঠে এসেছে স্টিভের কথা।

লিসার মতন তাঁর মা ক্রিস্যান ব্রেনান ২০১৩ সালে লেখেন ‘দা বাইট ইন দা অ্যাপল : আ মেমৈর অফ্ মায় লাইফ উইথ স্টিভ জবস’।

২০০৬ সালে জোবসের সাথী স্টিভ ওজনিয়াক লেখেন ‘আই ওজ’। এখানেও ঘুরে ফিরে জোবস এর কথা হয়েছে।

এছাড়াও নানা তথ্যমূলক বই স্টিভের জীবনী নিয়ে আলোচনা করে।

বই ছাড়াও, বিভিন্ন সিনেমা হয়েছে স্টিভের জীবনের উপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে আছে ফিচার ফিল্ম এবং তথ্যচিত্র।

বিভিন্ন থিয়েটার ও অপেরাও হয়েছে এই জাদুকরের জীবনের উপর।

স্টিভ জবস(Steve Jobs) এর উক্তি:

সারাজীবন স্টিভ জবস(Steve Jobs) মুগ্ধ করেছেন তাঁর কিছু উক্তি দিয়ে। স্টিভের কিছু কথা আমাদের সব সময় অনুপ্রেরণা যোগায়। তার মধ্যে কয়েকটি এখানে দেওয়া হল, অবশ্যই বঙ্গানুবাদ। দেওয়া হলো তার অর্থও।

“আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হয়, আমি কি তবু এই কাজটি করতাম?”

অর্থাৎ, কোনও কাজ করার আগে আমাদের একশো শতাংশ নিশ্চিত থাকা উচিত যে আমরা সেটা করতে চাই। এতে আমরা বুঝতে পারব সেই জিনিসটির প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আমরা। অনেক সময় অনেক কিছু আমরা করতে চাই যার পিছনে সেই কাজটি করার কোনও যুক্তি আমরা উদ্ধার করতে পারি না। অতএব কাজটি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই আমরা মাঝপথে ছেড়ে দিই। স্টিভ মনে করতেন, যতক্ষণ না আমরা একটা জিনিস তৈরি করার জন্য মরিয়া না হয়ে উঠি, যদি না বুঝি কেন করতে চাই তাহলে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয় না। আমাদের ভাবা উচিত, যদি আজ আমরা মরে যাই তবুও কি এই কাজটি করতাম? এই কাজটি কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ?

“ব্যবসায় কখনোই বড় জিনিস একা করা যায় না, এক দল লোক কাজটি করে”
অ্যাপল কোম্পানি এবং সারা বিশ্ববাসী অ্যাপলের সার্থকতার পুরোটাই স্টিভের জন্য ভাবে। কিন্তু স্টিভ জোবস নিজে কিন্তু সেটা মনে করতেন না। তিনি সবসময় মনে করতেন, যে কোনও বড় কাজ একা করা যায় না। একটি সুগঠিত দল লাগে। দলের প্রতিটা মানুষের পরিশ্রমের জন্যই বড় কাজটি সম্পূর্ণ হয়। অর্থাৎ, একটি বড় ব্যবসা অবশ্যই একটি মিলিত উদ্যোগ। এই কথাটা কিন্তু শুধু ব্যবসাতেই কার্যকর তা নয়, আমাদের জীবনে যে কোনও বড় কাজই একটি দল নিয়ে করতে হয়, একা করা যায় না।

“নিজেকে ভালোবাসো, এবং নিজের কাজকে ভালোবাসো। এটাই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি”

(Steve Jobs)জোবস বিশ্বাস করতেন, ভালোবাসা ছাড়া কোনও কাজ সম্পন্ন হয় না। যদি আমরা নিজেকে এবং নিজের কাজকে ভালই না বাসতে পারি, তবে সেই কাজের প্রতি নিষ্ঠা আসবে না। সে কাজ করার জন্য আমরা অনুপ্রেরণা পাব না। যদি কাজের প্রতি এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা না জন্মায়, শুধু যে আমাদের কাজ অসম্পূর্ণ হবে তাই না— এমনকি নিজের প্রতি বিতৃষ্ণা আসবে। এতে আমাদের মনোবল ভেঙে যাবে এবং আমরা সাফল্যের মুখ দর্শন করতে অক্ষম থেকে যাব। অতএব কাজে সাফল্য পেতে গেলে অত্যন্ত জরুরি, যে, আমরা নিজেকে ভালোবাসি এবং নিজের কাজকেও ভালোবাসি।

আরও পড়ুন – ভালোবাসার উক্তি | প্রেমের উক্তি | Love Quotes In Bengali

এরকম বহু উক্তি আছে যা আমাদের খারাপ সময় আমাদের মনোবল বাড়ায়।

কিন্তু জানেন কি, জোবস মৃত্যুশয্যায় কী বলেছিলেন? কী ছিল তার শেষ উক্তি?

স্টিভের শেষ উক্তি ছিল— “ও ওয়াও, ও ওয়াও, ও ওয়াও”-
অর্থাৎ, কী চমৎকার!

উনি শেষ মুহূর্তে বোন ও সন্তানদের দিকে তাকিয়ে কী বলতে চেয়েছিলেন তার রহস্য আর কেউ ভেদ করতে পারবে না। তবে একথা সত্য, স্টিভ তার জীবনে অনেক চমৎকার ঘটিয়েছেন।

আমরা অভিভূত!

উৎস: Wikipedia

Leave a Reply

Top