You are here
Home > Don't Miss > রাশিফল ও ভবিষ্যৎ > মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়: এই ৮ টি কাজ করলে প্রসন্ন হবেন লক্ষ্মী দেবী

মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়: এই ৮ টি কাজ করলে প্রসন্ন হবেন লক্ষ্মী দেবী

মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়

হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে আরাধ্য দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা সেই বৈদিক যুগ থেকেই চলে আসছে। বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা ও আরাধনা করে শুভফল প্রাপ্তি এবং মনোস্কামনা পূর্ণ হওয়ার কথা ও আমরা জেনে আসছি প্রাচীন কাল থেকেই। বর্তমানে আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে ও মানুষ ভগবানের কৃপা লাভের জন্য পূজা-অর্চনা করেই থাকে। তবে মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায় নিয়ে মানুষ একটু বেশিই উদ্বিগ্ন এবং কৌতূহলী কি করলে প্রসন্ন হবেন মা লক্ষ্মী দেবী।

শারদীয়ায় মা দূর্গার বিজয়া পর্ব শেষে কোজাগরী পূর্ণিমাতে মা লক্ষ্মীর আবির্ভাব। মা দূর্গার বিজয়া শেষে যখন মন ভারাক্রান্ত ঠিক সেই সময়েই বাঙালির গৃহ আলোকিত করে মা লক্ষ্মীর আগমন। প্রচলিত আছে মা লক্ষ্মী শান্তিপ্রিয় ও সৌভাগ্যের দেবী তবে চঞ্চল। তাই সারাবছর যাতে মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া যায় এবং গৃহে শান্তি, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে প্রতিবছরই কোজাগরী পূর্ণিমাতে মা লক্ষ্মীর পূজা বিশেষভাবে নিয়ম নীতি মেনে পালিত হয়।

ভারতবর্ষের প্রায় সর্বত্র মা লক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মীর পূজা প্রচলিত আছে। তবে রাজ্যভেদে বা লৌকিকতায় আলাদা আলাদা ভাবে পালিত হয়। বেশিরভাগ জায়গাতে কোজাগরী পূর্ণিমাতে মহালক্ষ্মীর পূজা পালিত হলেও। কোথাও কোথাও দীপাবলির দিন মহালক্ষ্মীর পূজা প্রচলিত । আবার বেশীরভাগ জায়গাতে দেখা যায় শুক্রবার মহালক্ষ্মীর পূজা পালিত হয়।

আবার, যেহেতু মা লক্ষ্মী ধন-ঐশ্বর্য্যের দেবী। তাই বাংলায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায় নিয়েই চিন্তিত। তাইতো প্রত্যেক বাঙালি গৃহস্থে প্রতি বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। এবং ব্যবসায়ীরা ও ব্যবসার জায়গাতেই মা লক্ষ্মীকে পূজা করে। এমনকি বৃহস্পতিবারে মাকে বিশেষ উপাচারে পূজা করা হয় তাই বৃহস্পতিবারকে লক্ষ্মীবার ও বলা হয়।

তবে, ভগবানকে আরাধনা করার জন্য বিশেষ তিথি যোগ, শুভক্ষণেরই যে দরকার এমন তো নয় নিত্যদিন ভক্তিভরে মন থেকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং তাঁর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। যেহেতু হিন্দুশাস্ত্রে পূজা অর্চনার বিশেষ কিছু নিয়ম নীতি ও আচার-অনুষ্ঠান উল্লেখ আছে সেহেতু অল্প মন্ত্রোচ্চারণে ও বিশেষ কিছু নিয়ম নীতি মেনে পূজা করলেই মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া যায়।

আজকের আলোচনায় দেখে নিন মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়:

মা লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র:

ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্য্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্ব্বত পাহিমাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোহস্ততে।।

এই মা লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র উচ্চারণে প্রতিদিন পূজা করলে তিনি সন্তুষ্ট হন। মা লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্রটি ১০৮ বার ভক্তিভরে জপ করলে মা ভক্তের ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতেই পারবে না।

মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা:

প্রচলিত কথা অনুযায়ী ভগবান শ্রীবিষ্ণুর পত্নী মা লক্ষ্মী দেবী। তবে শ্রীবিষ্ণু যেমন রাম ও শ্রীকৃষ্ণ অবতারে আবির্ভূত হয়েছিলেন মর্ত্যে তেমনি তাদের সঙ্গীনি হিসাবে মা লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মর্ত্যে মা লক্ষ্মীর আবির্ভূত হওয়া ও মা লক্ষ্মী দেবীর পূজা প্রচার হওয়ার কাহিনী মা লক্ষ্মীর ব্রতকথাতে উল্লেখিত। মা লক্ষ্মীর ব্রতকথায় বারোমাস্যা ও বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মী দেবীর পূজা পদ্ধতি ও উল্লেখিত রয়েছে। কোজাগরী পূর্ণিমাতে যদি মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা শোনা বা পাঠ করা হয় মা সন্তুষ্ট হন।

মা লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ:

সাধারণত সুর করে টেনে টেনে পড়ার রীতিই হল পাঁচালী। লৌকিক, পৌরাণিক বেশিরভাগ আখ্যান পাঁচালী রীতিতে লিখিত। মা লক্ষ্মীর পাঁচালী ও তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বাংলার ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠের রীতি প্রচলিত। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বাঙালি গৃহিনীগন যদি মা লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ করেন তাহলে গৃহে শান্তি সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিরাজ করে। এমনকি শুধু মা লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠই না যদি কেউ এটি শ্রবণও করেন তাহলে মায়ের আশীর্বাদ লাভ করেন।

লক্ষ্মীর শতনাম:

ভক্তের বিপদে যুগে যুগে বিভিন্ন অবতারে, বিভিন্ন রূপে ও মহিমায় ভগবানের আবির্ভাব এবং বিশেষ বিশেষ নামে আখ্যায়িত। আর সেই কল্পিত নাম ও আমরা জানতে পারি শতনাম থেকে। লক্ষ্মীর শতনাম ও এমনই, যেখানে মা লক্ষ্মী দেবীর রূপের ও মহিমা বর্ণিত। লক্ষ্মীর শতনাম পাঠ করলে সমস্ত পাপ বিমোচিত হয়ে মন শুদ্ধ হয় এবং মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া যায়।

মা লক্ষ্মীর গান:

মা লক্ষ্মীর অনেক গান বিশেষ ভক্তিরসে বিভিন্ন শিল্পীর কন্ঠে গীত হয়েছে তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো :

“এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে”

অনেকেই মন্ত্রোচ্চারণে সাবলীল নন তাই মা লক্ষ্মীর গান যদি মায়ের পূজার সময় গাওয়া হয় মা খুশি হন।

মা লক্ষ্মীর ছবি:

মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়

রাজা রবি বর্মার আঁকা চিত্রানুযায়ী মা লক্ষ্মীর ছবিতে কমলেকামিনী পদ্মউপবিষ্ট, বাহন পেঁচা নিয়ে মাকে দেখা যায়। আর পশ্চিমবাংলায় এমন রূপেরই মাতৃপ্রতিমা আরাধনা হয়। তবে ওপার বাংলায় সরায় আঁকা মা লক্ষ্মীর ছবি পূজিত হয়।

লক্ষ্মী দেবীর আলপনা:

লক্ষ্মী দেবীর আলপনা

চালের গুঁড়া বা খড়িমাটি দিয়ে বাঙালির গৃহে আলপনা করার রীতি প্রাচীনকাল থেকেই। তবে বাঙালি গৃহে মা লক্ষ্মীর আলপনা তো অনির্বচনীয়। ঠাকুর সিংহাসনে যেখানে মায়ের অধিষ্ঠিত ঘট বা মূর্তি আছে সেখান থেকে বাইরের দূয়ার অবধি এই আলপনা দেখা যায়।

মা লক্ষ্মীর পা:

মা লক্ষ্মীর পা

লক্ষ্মী পূজার দিনে মা লক্ষ্মীর পা ও ধানের ছড়া এঁকে আলপনা প্রতি বাঙালি গৃহে দেখা যায়। বাঙালি গৃহিনীরা যে মা লক্ষ্মীর পা আঁকেন তা দেখতে অনেকটা ইংরাজী ‘S’ অক্ষরের মতো এবং ছোট্ট ছোট্ট হয়। লৌকিকতায় আছে মা লক্ষ্মীর আঁকা পা ধরেই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে গৃহে মায়ের আগমন ঘটে। এবং এতে গৃহের কল্যাণ ও শান্তি বজায় থাকে।

বৃহস্পতিবার কয়েকটি বিশেষ কাজ করে মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া:

কথানুযায়ী বৃহস্পতিবার মা লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা পাওয়া যায়। তাই বৃহস্পতিবারকে লক্ষ্মীবার বলা হয়। আর এই বৃহস্পতিবার আম্রপল্লব পান সুপারি সহযোগে নতুন ঘট বসিয়ে মা লক্ষ্মী দেবীর পূজা করে মায়ের আশীর্বাদ লাভ করা যায়।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার যদি মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা শোনা বা পাঠ করা হয় মা সন্তুষ্ট হন।

মা লক্ষ্মী আলপনা

আবার, বৃহস্পতিবার বাঙালি গৃহিনীরা আলপনা দিয়ে মা লক্ষ্মীর পা এঁকে আলপনা করেন। এতে গৃহে মা বিরাজিত থাকেন এবং শান্তি বজায় থাকে।

লক্ষ্মী দেবীর কৃপা পাওয়ার জন্য বিশেষ ৮ টি উপায়:

১। ঠাকুর ঘরে শঙ্খ রাখা খুবই শুভ। তবে দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ মা লক্ষ্মী অধিষ্ঠিত সিংহাসনের পাশে লাল, হলুদ বা সাদা কাপড়ে জড়িয়ে একটা পাত্রের উপরে রাখলে গৃহে মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভ হয়।

মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়

২। বাঁশি হলো শ্রীবিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় । তাই একটি বাঁশিকে সিল্কের কাপড়ে জড়িয়ে মা লক্ষ্মী অধিষ্ঠিত সিংহাসনে রাখলে মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদ প্রাপ্তি হয়।

মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়

৩। প্রতি শুক্রবার পরমান্ন দিয়ে গোসেবা করলে মা লক্ষ্মী দেবী সন্তুষ্ট হন এবং মায়ের আশীর্বাদ লাভ হয়।

গোসেবা

৪। প্রতিদিন সকালে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্রে ১০৮ বার লক্ষ্মী গায়ত্রী মন্ত্র জপ করলে মা লক্ষ্মী দেবী প্রসন্ন হন এবং আশীর্বাদ করেন।

গায়ত্রী মন্ত্র জপ

৫। প্রতি শুক্রবার মা লক্ষ্মীর পটের সামনে বা মাতৃ প্রতিমার সামনে পদ্মমূল দিয়ে তৈরী ৯ টি সলতে জ্বালিয়ে মায়ের কৃপা পাওয়া যায় এবং গৃহে সুখ প্রাচুর্য বৃদ্ধি পায়।

মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়ার উপায়

৬। তুলসী হলো মা লক্ষ্মীর এক বিশেষ রূপ। প্রতি বাঙালি গৃহস্থে তুলসী থাকেই। তাই তুলসী গাছের কাছে প্রদীপ জ্বালিয়ে মা লক্ষ্মীর কৃপা প্রাপ্তি হয়।

তুলসী মা লক্ষ্মী

৭। টানা ১০ দিন নিয়মিত দ্বাদশ স্তোত্র উচ্চারণ করলে ঋণমুক্তি হয়।

মা লক্ষ্মী দেবী

৮। এছাড়া, ৩০ দিন নিয়মিত মা লক্ষ্মীর প্রতিমা বা পটের সামনে শ্রীসুক্ত পাঠ করলে মা লক্ষ্মী দেবী প্রসন্ন হন এবং লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া যায়।

মা লক্ষ্মী দেবী

আরও পড়ুন – মা তারা ও সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ মন্দির: বাঁধা বিঘ্ন ও দুঃখ বিমোচনে তারা মা

মা লক্ষ্মীর কৃপাতে জীবনে সফলতা লাভ হয় এবং জীবন সুখ স্বাচ্ছন্দ্য শান্তিপূর্ণ হয়। মা লক্ষ্মী দেবীর কৃপা পাওয়ার উপায় হিসাবে উপরোক্ত আলোচনাগুলি ভক্তিভরে পালন করে দেখুন নিশ্চয়ই ফল পাবেন। মহালক্ষ্মীর অসীম কৃপায় আপনাদের জীবন পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক।

Leave a Reply

Top