You are here
Home > Don't Miss > শরীর ও স্বাস্থ্য > কাজু বাদামের উপকারিতা: কাজুবাদাম দেখতে ছোট হলেও গুনে ভরপুর

কাজু বাদামের উপকারিতা: কাজুবাদাম দেখতে ছোট হলেও গুনে ভরপুর

কাজু বাদামের উপকারিতা

ছোট হোক বা বড় আমরা সকলেই মোটামুটি কাজুবাদাম খেতে ভালোবাসি। ড্রাই ফ্রুটস এর মধ্যে অন্যতম এই উপাদানটি কেক, বিস্কিট, চকোলেট থেকে শুরু করে চাটনি ,পায়েস ,সন্দেশ তৈরিতে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। সামান্য কাজুবাদামের ব্যবহার, খাদ্যের স্বাদকে আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে এছাড়া শারীরিক পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে কাজু বাদামের উপকারিতা-র কোনো তুলনা হয়না। কাজু বাদামে উপস্থিত প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নানা ভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে।কাজু বাদামে ভিটামিনের মাত্রা অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। তাই অনেকে একে প্রকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট বলেও মনে করেন।

তাহলে আসুন আর দেরি না করে তারাতারি জেনে নেওয়া যাক সুস্বাদু কাজু বাদামের নানাবিধ উপকারিতা গুলি।

  • ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
  • হার্ট ভালো রাখে ও কোলেস্টেরল দূর করে
  • ত্বকের ও চুলের সমস্যা সমাধানের কাজুবাদামের উপকারিতা
  • হাড় শক্ত করতে ও অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে কাজু বাদামের উপকারিতা
  • ক্যান্সার রোধে কাজুবাদামের উপকারিতা
  • স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করতে কাজুবাদামের উপকারিতা
  • সংক্রামনের সঙ্গে লড়াই করতে কাজুবাদামের উপকারিতা

চলুন তাহলে এরপর সরাসরি চলে যাওয়া যাক বিস্তারিত আলোচনাতে:

১) ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে:

ডায়েবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা এখোন প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুশ্চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে চিন্তা করবেন না কারণ আপনার কাছেই আছে এর সমাধান। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে প্রোটিন এবং ফাইবার ভরপুর এই কাজুবাদাম নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করার মাত্র নিয়ন্ত্রণের থাকে। কাজুবাদামে উপস্থিত ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে গ্লুকোজের ভারসাম্য রক্ষা করে ও শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।প্রতিদিন পাঁচ ছটা বাদাম খান দেখবেন উপকার মিলবে।

কাজুবাদামে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে এবং পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে। যার কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কাজুবাদাম অনবদ্য ভূমিকা পালন করে।

২) হার্ট ভালো রাখে ও কোলেস্টেরল দূর করে:

কাজু বাদামে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হার্টের নানাবিধ সমস্যা থেকে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তারা প্রতি দিন কাজুবাদাম খেতেই পারেন।কাজুবাদামে উপস্থিত আর্জিনিন নামক উপাদান থাকে যা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমায় ও হার্টকে সুস্থ রাখে।এবং হার্টের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
কাজুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ওলিসিক নামক এক ধরনের মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। যা দেহের গুড কোলেস্টেরল এর মাত্রা বাড়ায় ও ব্যাড কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত কাজুবাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলত হার্টেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই বিভিন্ন ডায়েটিসিয়ান ও নিউট্রিসানিস্টরা কাজুবাদামের উপকারিতা দেখে এই বাদাম খাওয়া পরামর্শ দেন।

৩) ত্বকের ও চুলের সমস্যা সমাধানে কাজু বাদামের উপকারিতা:

কাজুবাদাম শুধু মাত্র পুষ্টিগুনে ভরপুর তাই নয় যআমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী কাজু বাদামের প্রচুর পরিমানে জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং ফসফরাস আছে। এছাড়াও এটি প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সমৃদ্ধ হওয়ায়।আমাদের ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে।

শুধু মাত্র ত্বকের নয় চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেও কাজুবাদামের উপকারিতা অপরিসীম।কাজুবাদামের উপস্থিত কপার চুলের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি চুলের গোড়াকে মজবুত করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।দেখলেন তো কাজুবাদাম কিভাবে ত্বকের ও চুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।

৪) হাড় শক্ত করতে ও অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে কাজু বাদামের উপকারিতা:

কাজু বাদামে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান বর্তমান। হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করতে ও হারের ক্ষয় রোধ করতে সহায়ক। এছাড়াও অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো হাড়ের রোগ হওয়ার আশঙ্কাকেও দূর করতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে,কাজুবাদামে প্রচুর পরিমাণে আয়রন বর্তমান।তাই আয়রনের মাত্রা কমে গেলে কাজু খাওয়া মাত্র দেহের ভেতর থেকে আয়রনের ঘাটতি দূর হয়।কাজুবাদাম খাওয়ার ফলে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায় তাই অ্যানিমিয়ার মতো রোগেরও সমাধান করতে সক্ষম।সেই সঙ্গে কাজুবাদাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি সাধন করে থাকে।

৫) ক্যান্সার রোধে কাজু বাদামের উপকারিতা:

বর্তমান যুগে ক্যান্সার তো প্রায় ঘরে ঘরে ই পৌঁছে গেছে। এই মারণ রোগ প্রতিরোধে কাজুবাদামের উপকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেখা গেছে যেখানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, সেখানে ক্যান্সার সেলের খোঁজ পাওয়া দূষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। তাই তো এই মারণ রোগ প্রতিরোধে কাজু বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তারে রা। আসলে এই কাজুবাদামের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি টিউমার প্রতিরোধেও সহায়ক।কাজু বাদামে থাকা প্রম্যান্থোসায়ানিডিন নামক উপাদান ত্বকের ক্যান্সার রোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৬) স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করতে কাজু বাদামের উপকারিতা জেনে নিন:

শিশু শিক্ষার্থী স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে ও বয়ষ্কদের স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে চিকিৎসকরা কাজুবাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

কাজু বাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম নার্ভের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে মস্তিষ্কের টিস্যু গুলি র শক্তি বাড়িয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।এবং ব্রেনের কগনিটিভ ফাংশনেরও উন্নতি ঘটে। ফলে বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগও বাড়তে শুরু করে।তাই কাজুবাদাম কে ব্রেনের পাওয়ার বুস্টার ও বলা হয়ে থাকে।

৭) সংক্রামনের সঙ্গে লড়াই করতে কাজুবাদামের উপকারিতা:

কাজুবাদামে জিঙ্ক ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সিদ্ধহস্ত।তাই ইনফেকশনের শিকার হয়ে থাকলে কাজুবাদাম খেতে পারেন এতে সংক্রামনের হাত থেকে অতি অবশ্যই মুক্তি পাবেন।

সেরা মানের কাজু বাদাম কিনতে এখানে ক্লিক করুন

এই বাদাম জাতীয় খাবারটি উপকারী তো বটেই এবং সুস্বাদুও। নিজেরাই দেখলেন তো কাজুবাদামের উপকারিতা। বলা বাহুল্য কাজুবাদাম আমাদের দৈনন্দিন জীবন অনেক সমস্যা সমাধানে নজির গড়ে তোলে। দামি ওষুধ, ডাক্তার-ঘর এসব কিছু করতে হবে না শুধু একটু নিয়ম করে এইসব উপাদান খাওয়ার অভ্যাস করুন।

আরও পড়ুন – জানুন পুদিনা পাতার আশ্চর্য জনক উপকারিতা

আশা করবো আলোচনাটি আপনাদের সকলের অনেক উপকারে আসবে।আমাদের এই আলোচনা আপনাদের কেমন লাগল তা অবশ্যই জানাবেন। পরবর্তীতে আরও ভেষজ উপাদানের গুনাগুন সম্পর্কিত তথ্য পেতে অতি অবশ্যই আমাদের পাশে থাকুন।ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন।

ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Top