You are here
Home > Don't Miss > রাশিফল ও ভবিষ্যৎ > কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন: কোন রাশির মেয়ে আপনার উপযুক্ত

কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন: কোন রাশির মেয়ে আপনার উপযুক্ত

কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন

কবে আমার বিয়ে হবে, কবে মনের মানুষের দর্শণ মিলবে, সকলেই কিন্তু শয়নে মননে এই বিষয় নিয়ে ভাবেন সে আপনি যতই সকলের সম্মুখে মানাতে নারাজ হোন। ভবিষ্যৎ সঙ্গীকে নিয়ে অনেকেই কল্পনার জগতে ভাসেন কিন্তু সেটা যে অন্যায় তা একদমই নয়, বরং একদম যুক্তিযুক্ত। আর পূর্বকাল থেকেই জ্যোতিষীরা বলে আসছেন, বিয়ের আগে অবশ্যই গ্রহ- নক্ষত্র, রাশিফল মিলিয়ে নেওয়া উচিৎ। আর এই রাশির মধ্যে লুকিয়ে থাকে পাত্র পাত্রীর মতের ও মনের মিলের কাহিনী। আর আমাদেরও আজকের আলোচ্য বিষয় হল ‘কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন’?

আমরা রাশিফল বিষয়ক পোষ্টটির মাধ্যমে তুলে ধরব কিছু অজানা তথ্য যা আপনাদের জ্ঞাত করে তুলবে এটি জানতে যে কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন হয়।

  • রাশিফল কাকে বলে?
  • রাশি কত ধরনের হয় ও কি কি?
  • রাশি দেখে কেন পাত্রী নির্বাচন করা উচিৎ?
  • কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন স্বভাবের হয়?

তাহলে চলুন সময় না বাড়িয়ে দেখে নেওয়া যাক ‘ কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন হয়’ এই সমন্ধে বিস্তারিত-

রাশিফল কাকে বলে?

রাশি শব্দের অর্থ হল ‘রাশ বা সমষ্টি’, ও একত্রে জোড়াকৃত ইত্যাদি। অপরদিকে ফল শব্দের অর্থ হল ‘কোন বিষয়ক কিছু প্রাপ্তি’। জ্যোতিষবিদ্যা অনুযায়ী কতগুলি জোড়াকৃত নক্ষত্রের কল্পিত আকৃতির সমন্বয়ে রাশি কথার উৎপত্তি। পুরান অনুযায়ী রাশির বৈশিষ্ট্য ও নক্ষত্রমন্ডলীর দৃশ্যত চিত্রের নিরিখে বিভিন্ন প্রানী ও চিহ্নের মেলবন্ধনে রাশি সমূহের কল্পনাকৃত নামকরণ হয়েছে।

রাশি কত ধরনের হয় ও কি কি?

রাশি মোট ১২ ধরনের হয়। এই রাশির উপর নির্ভর করে সকলের স্বভাব- প্রকৃতি ও আচার আচরণ।

১) বৃষ রাশি
২) মেষ রাশি
৩) কন্যা রাশি
৪) বৃশ্চিক রাশি
৫) তুলা রাশি
৬) মীন রাশি
৭) মকর রাশি
৮) কর্কট রাশি
৯) কুম্ভ রাশি
১০) সিংহ রাশি
১১) মিথুন রাশি
১২) ধনু রাশি

রাশি দেখে কেন পাত্রী নির্বাচন করা উচিৎ?

সকল পুরুষই চায় তার সহধর্মিনী তার মনের মধ্যে আঁকা ছবির ন্যায় সুন্দর, সুশীল, সর্বগুন সম্পন্না হোক। কিন্তু বাস্তবে সেটি হয় না কারন মেয়েদের আচার-আচরণ, স্বভাব চরিত্র নির্ভর করে তার জন্মকৃত রাশির উপর, তার রাশিই ঠিক করে দেয় সে কেমন স্বভাবের হবে। তাই বিবাহ পূর্বে পাত্রীর রাশি দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারন বিবাহের পরবর্তী সময়ে যাতে সংসারে কোন রকম অশান্তি, ঝামেলার সৃষ্টি না হয়, সংসার যাতে সুখের হয়ে ওঠে, উভয়ের মতের ও মনের মিল হয় তাই এই রাশি নির্বাচনের নিয়ম।

কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন স্বভাবের হয়?

বৃষ রাশি:

এই রাশির জাতিকারা খুব মিশুখে , সহজ , সরল স্বভাবের হয়। এরা সবাইকে আপন করে নিতে ভালবাসে। ভালোবাসার মানুষকে ও সংসারকে আগলে রাখে। এরা খুব গুনবতী হয়। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করার সাহস রাখে। যদিও এদের প্রথমে দেখে শান্ত, মিষ্টি প্রকৃতির মনে হলেও রেগে গেলে এরা আসল রূপ ধরে। ছোট ছোট উপহারে এরা খুব সহজেই খুশি হয়। ফুল, চকলেট, কবিতা দিয়ে এদের মন ভোলানো খুবই সহজ। এরা মানসিক শক্তির দিক দিয়ে খুব শক্ত ধাঁচের হয়।

মেশ রাশি:

এরা যে কোন বিষয়ে সহজেই নেতৃত্ব দিতে পারে। সকলের বিপদে এগিয়ে আসে। কাজের ক্ষেত্রেও এরা অতন্ত্য নিষ্ঠাবান হন। নিজের ক্ষমতাবলে সব কাজভার নিজ কাঁধে নিয়ে নিতে সক্ষম। একটি কাজ শেষ না হতেই পরবর্তী কাজে ঝাপিয়ে পড়ার প্রবণতা থাকে। কোন বিষয় পছন্দ না হলে মুখের উপর সেটি না বলার ক্ষমতাও রাখেন। কাজের মত এরা সংসারকেও ধরে রাখে আষ্টেপৃষ্টে।

কন্যা রাশি:

কন্যা রাশি সত্যি কন্যা। এদের আচরন নারীসুলভ, ও চুপচাপ প্রকৃতির হয়। কিন্তু চুপচাপ হলেও এদের অবলা ভাববেন না। এরা যথা সময়ে মুখ খুলতে পারে। এরা নিজেদের খুব ভালোবাসে। নিজেদের ‘নিখুত’ ভাবে গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু নিজেদের নিখুত করতে গিয়ে এরা অন্যদের জীবনে জটিলতা নিয়ে আসে । কিন্তু এরা নিজের জীবনের মতো সংসারের ক্ষেত্রেও খুব নিখুঁত হয়।

বৃশ্চিক রাশি:

এই রাশির জাতিকার রূপে খুব ধার হয়। যে কোন সময় আপনাকে নিজের দিকে আকর্ষিত করতে পারে। এর খুব রহস্যময়ী ও লাস্যময়ী হয়। এই ধরনের রাশির জাতিকারা আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী হয়, সোজা সাপটা আঁচরন এরা পছন্দ করে কিন্তু এদের মনের ভেতর থাকে অনেক জটিলতা । যে কোন পরিস্থিতি এরা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু কখনও কখনও জেদবশত নিজের ক্ষতিসাধন করে বসেন। কিন্তু এরা স্বামী ও সংসারের গায়ে কোন ক্ষতির আঁচ লাগতে দেয় না।

ধনু রাশি:

ধনু রাশির জাতিকার মধ্যে এক দার্শনিক ভাব দেখা যায়। এরা যে কোন বিষয় খুব গভীরভাবে তলিয়ে ভাবতে ভালোবাসেন। নিজের জীবনে পাওয়া সমস্ত অভিজ্ঞতাকে এরা খুব মূল্য দিয়ে থাকে। এরা খুব স্বাধীনচেতা ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রকৃতির হয়। এদের কিন্তু কোন বেড়াজালে আটকে রাখা যায় না। সকল পরিস্থিতিতে এরা সত্যের সন্ধান করে থাকে । মিথ্যার আশ্রয় নিতে এরা একদম নারাজ । সংসারেও ক্ষেত্রেও এরা মাথা নত করে না। সত্যি কে সত্যি বলেই এরা ধার্য করে।

মকর রাশি:

মকর রাশির মেয়েরা খুব উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়। যা তাঁদেরকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায়। সাফল্য অর্জনের পথে এরা কোন রকম বাঁধা সহ্য করে না। এছাড়া এরা খুব একগুঁয়ে হয়। কিন্তু খুব মাথা ঠাণ্ডা করে যে কোন পরস্থিতি বিষয়ক সিধান্ত নিয়ে থাকে। বিয়ের পর সংসারের হাল সামলানোর ক্ষেত্রেও তারা ঠাণ্ডা মাথায় বিচার বিবেচনা করে থাকে।

কুম্ভ রাশি:

কোন বেড়াজালে এদের আবদ্ধ রাখা যায় না। এদের চরিত্র বোঝা বড় দায়। সকলের সমস্ত ধারনাকে ভুল প্রমান করে সে পরিবর্তিত হয়ে যায় নিমেষের মধ্যে। এদের মেজাজ থাকে সর্বদা তুঙ্গে ও সেটি মুহূর্তের মধ্যেই পরিবর্তনশীল। কিন্তু এরা খুব মায়া , মমতাবান হন, অন্যের দুঃখে এদের মন সর্বদা কাঁদে। এরা একজন খুব ভালো সমাজসেবী হন। সংসারের প্রতি মায়া দয়াও এদের যথেষ্ট, মমতার আঁচল দিয়ে সংসারকে আগলিয়ে রাখতে জানে।

মীন রাশি:

এই রাশির জাতিকার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেক রহস্য। এরা খুব রোমান্টিক ও প্রাণবন্ত মনের হয়। এরা নিজেদের বহিঃপ্রকাশ একদমই করে না বললেই চলে। বাইরের ও ভেতরের ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। বলতে পারেন দুই মেরু। নিজের দুঃখকে সকলের থেকে আড়াল করে রাখতেই এরা স্বচ্ছলবোধ করে। কল্পনার জগতে নিজেদের হারিয়ে ফেলতে ভালোবাসেন, এরা সত্যিকারের স্বপ্নচারী হন। সংসার নিয়েও তারা কল্পনার জগৎ সাজায়, অন্যদের থেকে আলাদাই স্বপ্ন দেখে সংসার নিয়ে।

তুলা:

এই রাশির জাতিকারা সৌন্দর্য, ন্যায় এবং ভারসম্যের প্রতীক। দাঁড়িপাল্লার মতো এদের চরিত্রে দেখা যায় সমতা। এরা অন্যদের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে। এদের প্রতি সবার আকর্ষন থাকে প্রবল। এরা কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মনযোগী ও নিষ্ঠাবান হন। এদের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল প্রকৃতির হয়। এরা অন্যকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে জানে। যুক্তিসঙ্গত কথা বলতে দুবার ও ভাবেন না। অবাস্তব কথাকে এরা প্রাধান্য দেন না। কিন্তু সংসারকে এরা খুব ভালবাসেন ও সকলের আবেগের মূল্য দিতে জানেন।

সিংহ রাশি:

এই সকল জাতিকাদের রাশি যেহেতু সিংহ তাই এদের স্বভাবেও তার বৈশিষ্ট লক্ষ্যনীয়। এরা যেমন বুদ্ধিমতী হন তেমন শক্তিশালী ও হন। এই রাশির জাতিকাদের কোন কিছু নিয়ে না ঘাঁটানোই শ্রেয়। এরা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন। প্রেমের ক্ষেত্রে এদের বাদবিচার প্রবল মাত্রায়। কিন্তু একবার রাজি হয়ে গেলে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে। সঙ্গীর জীবনে ছায়ার মতো লেগে থাকবে। কোন বিপদ এলে তিনিই ঢাল হয়ে দাড়ান।

কর্কট:

সকল রাশির থেকে এই রাশির জাতিকার বৈশিষ্ট নির্ণয় সবথেকে কঠিন। এরা সহজ, শান্ত ও শান্তিপ্রিয় প্রকৃতির হয়। তবে তার অনুভূতি হতে পারে অনেক জটিল। এদের ব্যক্তিত্ব খুব স্পর্শকাতর হয়। এদের নিয়ে সমালোচনা না করাই মঙ্গল। এদের বুদ্ধির পাশাপাশি অনুমানশক্তি খুব প্রখর হয়। এছাড়া কোন ব্যক্তিত্বকে খুব কম সময়েই পরোখ করে নিতে পারে সে ভালো না খারাপ। এদের বৈবাহিক সময় একটু ধীর হয়, কারন এরা সঙ্গীকে তাড়াতাড়ি বিশ্বাস করে উঠতে পারে না।

মিথুন রাশি:

পৃথিবীর সকল বিষয়ে জানার কৌতূহলের শেষ নেই, এরা জানতে খুব আগ্রহী হন । এদের একই শরীরে নানা মনের নারীর খোঁজ মেলে। অর্থাৎ এরা বিভিন্ন রূপ ধারনে দক্ষ। কখন কেমন বোঝা খুব দায়। প্রেমের ক্ষেত্রে এরা খুব খুঁতখুঁতে হয়। কিন্তু পছন্দের জীবনসঙ্গী পেয়ে গেলে এরা কোন রকম সংকোচবোধ করে না নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে। এদের সম্পর্ক খুব দির্ঘস্থায়ী হয়।

আরও পড়ুন – সৌভাগ্যবতী নারী চিনুন শরীরের এই বিশেষ অঙ্গগুলি দেখে

প্রতিটি মেয়েই আলাদা আলাদা রাশির ধারক হয়, তাই তাঁদের স্বভাব চরিত্র আলাদা আলাদা হওয়াই স্বাভাবিক। এবার আপনি কোন রাশির মেয়েকে নিজের জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেঁছে নেবেন তা সম্পূর্ণ আপনার নিজস্ব অভিব্যক্তি। আর যদি আপনার রাশির সাথে আপনার সঙ্গিনীর রাশির বেশীর ভাগ বিষয় মিলে যায় তাহলে আপনারা হলেন ‘রাজযোটক’। তাহলে আর মনে কোনরকম দ্বিধা নেই তো জানতে যে কোন রাশির মেয়েরা বৌ হিসাবে কেমন। এবার ঝটপট বিয়ের ফুল ফুটিয়েই ফেলুন আপনার জীবনে। আর সঠিক জীবন সঙ্গিনীর সাথে বৈবাহিক জীবন সুখময় করে তুলুন। আনন্দে থাকুন সুস্থ থাকুন আর সঙ্গিনীকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিন।

এই ধরনের আরও অজানা বিষয় সমন্ধে জানতে চোখ রাখুন আমাদের এই পেজে। প্রতিনিয়ত আপনারা পাবেন নিত্য নতুন বিষয়ের জানকারি । আর আপনি কোন রাশির জাতিকাকে নিজের সহধর্মিনী হিসেবে বেঁছে নিলেন জানাতে কিন্তু ভুলবেন না।

Leave a Reply

Top