You are here
Home > Don't Miss > ভাইরাল > দূর্নিবার গতিতে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় “আমফান”: আবহাওয়া দফতর

দূর্নিবার গতিতে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় “আমফান”: আবহাওয়া দফতর

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় 'আমফান'

আজ সারা দেশ জুড়ে যেখানে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে ভারাক্রান্ত মানুষ। সেখানে বাংলার দিকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। এ যেন বিষের উপর বিস্ফোরণের অবস্থা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মহামারী করোনার সাথে সাথেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’- এর সাথে ও লড়তে হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের মানুষজনকে।

‘বুলবুল’, ‘ফণি’ , ‘তিতলি’- র মতোই আরেকটা ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ ঘূর্ণিঝড়ের উদ্ভব হল। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ‘আমফান’ ঘূর্ণিঝড় রুপে পরিণত হয়েছে । দূর্নিবার গতিতে বাংলার দিকে ধেয়ে আসা এই ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ – রুপে রুপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কা। আসুন দেখে নিন :

  • ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ এর গতিবিধি
  • পশ্চিমবঙ্গের উপর ‘আমফান’ এর প্রভাব :
  • উপকূলবর্তী এলাকায় ‘আমফান’ এর প্রভাব ও সতর্কতা
  • প্রশাসনিক ব্যবস্থা
  • করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ‘আমফান’ এর ভূমিকা

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ এর গতিবিধি:

আবহাওয়াবিদদের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে –

  • দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড় রুপে শনিবার থাকলে ও রবিবার ১৭ মে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রুপান্তরিত হতে পারে।
  • ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ ১৮ মে সোমবার এবং ১৯ মে মঙ্গলবার ঘন্টায় ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগে থাকলে ও ২০ মে বুধবার আরও দূর্বার গতিতে ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে ভয়ঙ্কর রুপ নিতে পারে।
  • ১৮ মে – ২০ মে উত্তর পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে উপকূলবর্তী এলাকায় এগিয়ে যেতে পারে।
  • উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধাবিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশে ও হানা দিতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের উপর ‘আমফান’ এর প্রভাব:

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে –

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’- এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি সহ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।

উপকূলবর্তী এলাকায় ‘আমফান’ এর প্রভাব ও সতর্কতা:

১৮ মে – ২০ মে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ভয়ঙ্কর রুপে হানা দিতে পারে। ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা। এবং সমুদ্র ও টালমাতাল হবে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে ইতিমধ্যেই মৎসজীবীদের উদ্দেশ্যে সতর্কতা জারি হয়েছে। এবং আগামী ৫-৬ দিন আর নদীতে না যাওয়ার সতর্কতা করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা:

স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন:

“ইতিমধ্যেই সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মৎসজীবীদের। প্রশাসন সচেতন এবং সব রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরী আছে।” ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যথা :

পশ্চিমবঙ্গ: দক্ষিণ ২৪ পরগণার বকখালি, কাকদ্বীপ, নামখানা, সাগর এবং সমুদ্র তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, বাঁধ মেরামতির জন্য পদক্ষেপ ও নেওয়া হচ্ছে।

  • উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ এর প্রভাব মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
  • ওড়িশা সরকার উপকূলবর্তী এলাকার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন

সূত্রের খবর: ওড়িশার মুখ্য সচিব ১৮ মে থেকে পরবর্তী ৩ দিন। করোনার কবলে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার জন্য যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছিল। তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ওড়িশা উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল ঝড় বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
  • উপকূলরক্ষী বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বাহিনী নিযুক্ত করা হচ্ছে।
  • আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অঞ্চলগুলিতে ও প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ‘আমফান’ এর ভূমিকা :

বিশেষজ্ঞদের মতে – মহামারী করোনার কবলে গোটা দেশ জর্জরিত। এমনই সময়ে প্রবল ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে রাজ্যের পরিস্থিতি চরম সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।

করোনা প্রতিরোধের বিধিনিষেধ মানা সম্ভব না হয়ে উঠতে পারে। ফলে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে ও পারে ।

আরও পড়ুন – লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে ৪র্থ দফায় লকডাউন জারি : সমালোচনা তুঙ্গে

সর্বোপরি, প্রশাসন ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাজ্যের পরিস্থিতি যাতে চরম সঙ্কটজনক না হয়ে উঠতে পারে, প্রশাসন সচেষ্ট।
ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’ নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। আবহাওয়া দফতর আমাদের পূর্বাভাস দিয়ে ওয়াকিবহাল করেছেন এবং সাবধানতার কথা ও বলেছেন।

সংবাদপত্র ও নিউজ চ্যানেল সংগৃহীত তথ্যসূত্র আলোচিত হলো। আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট পেতে আমাদের পেজটি লাইক করুন। প্রশাসন, আবহাওয়া দফতরের পাশাপাশি আমরাও আছি আপনাদের সাথে। আসুন আমরা পূর্বে থেকেই সতর্ক ও সাবধানতা অবলম্বন করি।

Leave a Reply

Top