You are here
Home > Don't Miss > ভাইরাল > চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি ছাড় থাকছে? কি কি বিধিনিষেধ থাকছে?

চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি ছাড় থাকছে? কি কি বিধিনিষেধ থাকছে?

চতুর্থ দফার লকডাউন

ক্রমশঃ বর্ধমান করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে রুখতে লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে ৩১ মে করা হলো। শুরু হলো চতুর্থ দফার লকডাউন! ১ম, ২য় ও ৩য় দফার লকডাউনের তুলনায় চতুর্থ দফার লকডাউনে থাকছে বেশ কিছু ছাড় এবং কিছুটা শিথিল হয়েছে বিধিনিষেধ।

রাজ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশই বেড়ে চীনকে ও ছাপিয়ে গিয়েছে। তাই, সংক্রমণের পরিমাণ ও আশঙ্কার নিরিখে রাজ্যের কনটেনমেন্ট জোনকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত পড়ে যায় রাজ্যের উপর। এবং করোনায় বিপর্যস্ত জনমানসের স্বার্থে চতুর্থ দফার লকডাউন কিছুটা শিথিল ও করা হয়েছে। আসুন দেখে নেওয়া যাক চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি ছাড় থাকছে? কি বিধিনিষেধ থাকছে?

কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রক চতুর্থ দফার লকডাউনে বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেন। যেখানে রয়েছে, চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি বিধিনিষেধ ও কি কি খোলা থাকছে যথা:

চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি বিধিনিষেধ:

  • চতুর্থ দফার লকডাউনে বিমান ও মেট্রো রেল পরিষেবা বন্ধ থাকবে।
  • শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ও ১৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকবে।
  • কনটেনমেন্ট জোন চিহ্নিত এলাকায় বাস চলবে না।
  • স্কুল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেস্তোরাঁ ও সিনেমাহল বন্ধ থাকবে।
  • দোকান, বাজার খোলা থাকবে তবে খোলার ব্যাপারে কড়া নজরদারি ও চাপাতে পারে।
  • সমস্ত রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান মূলত জমায়েত অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
  • ৬৫ বছরের বয়স্ক বা শিশুদের বাড়ির বাইরে যাওয়া চলবে না।
  • ক্রীড়াঙ্গন ও স্টেডিয়াম খোলা থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও দর্শকদের বসার অনুমতি নেই।
  • নৈশ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সন্ধ্যা ৭টা – পরের দিন সকাল ৭ টা পর্যন্ত অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া চলাচল বন্ধ।

কি কি খোলা থাকবে:

  • বিয়ের অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ৫০ জন এবং শেষকৃত্যে ২০ জন হাজির থাকতে পারবে।
  • অন্তঃরাজ্যে বাস চলাচল হতে পারে। তবে সেটা রাজ্যই ঠিক করে দেবে কোথায় কোথায় চলবে।
  • রেড জোন চিহ্নিত এলাকায় ই-কমার্সকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে অত্যাবশকীয় জিনিস বিক্রির জন্য।

চতুর্থ দফার লকডাউনের বিষয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের সাথে একই সহমত পোষন করেন নি। তিনি নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন ৩১ শে মে পর্যন্ত লকডাউন চলবে ঠিকই কিন্তু বিশেষ কিছু ছাড় ও দেওয়া হবে। আসুন দেখে নিই – চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি ছাড় থাকছে?

চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি ছাড় থাকছে:

১. মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান – চতুর্থ দফার লকডাউনে রাজ্যের কনটেনমেন্ট জোন ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা –
এ = সংক্রমণ জোন
বি = বাফার জোন
সি = ক্লিয়ার জোন

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী জানান – ২৭ শে মে থেকে বি ও সি জোনে ২ জন যাত্রী নিয়ে অটো চলাচল হবে।

২. ২১ মে থেকে কনটেনমেন্ট জোন ছাড়া সর্বত্র বড়ো
দোকান খুলবে।

৩. বিভিন্ন জেলার মধ্যে সরকারি বাস চলাচলের ঘোষণা এমনকি বেসরকারি বাস চালানোর জন্য বাস মালিকদের কাছে অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর।

৪. সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনেই হোটেল খোলার অনুমতি দেন তিনি। তবে রেস্তরাঁ বন্ধ থাকবে কিন্তু খাবার হোম ডেলিভারি করা যাবে।

৫. একদিন অন্তর সরকারি ও ৫০ শতাংশ কর্মচারী দিয়ে বেসরকারি অফিস খোলার ও ঘোষণা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর।

৬. শপিং মল বন্ধ থাকবে তবে শপিং মলের ভিতরের অফিস খোলা যেতে পারে।

৭. সোশ্যাল ডিসট্যান্স বজায় রেখে এবং ছুরি কাঁচি স্যানিটাইজার করেই সেলুন, বিউটি পার্লার খোলা যেতে পারে।

৮. হকার্স মার্কেট খোলার জন্য বিশেষ কমিটি ও নিযুক্ত করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

৯. যে কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সে শবদাহ বা বিবাহ অনুষ্ঠানই হোক সেখানে ১৫ জন থাকতে পারেন।

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন – চতুর্থ দফার লকডাউনে কেন্দ্রের নির্দেশিকা নৈশ কার্ফু জারি উল্লেখিত হলে ও বাংলায় তা হবে না। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন –

“নাইট কারফিউ বলে সরকারিভাবে কিছু থাকছে না। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হোক, চাই না। তবে হ্যাঁ বেআইনি জমায়েত যেন না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে।”

সর্বোপরি, জনসাধারণের উদ্দেশ্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ও মাস্ক অবশ্যই বাধ্যতামূলক। এবং নিজেদের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও নিউজ চ্যানেল সংগৃহীত তথ্য চতুর্থ দফার লকডাউনে কি কি ছাড় থাকছে আলোচিত হলো। করোনাভাইরাসের সম্বন্ধে আরও আপডেটেড পেতে আমাদের সাথে থাকুন বলাবাহুল্য, লকডাউন যেমনই শিথিল হচ্ছে ধীরে ধীরে তেমনি আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় করোনার প্রকোপ ও শিথিল হবে এটাই আমাদের প্রার্থনা 🤲 হোক।

Leave a Reply

Top